ষষ্ঠ শ্রেণী বিজ্ঞান
একাদশ অধ্যায় সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর গাইড WBBSE Class 6 Science chapter 11
১) আচরণ বিজ্ঞান কাকে বলে?
জীব বিজ্ঞানের যে শাখায় জীবজন্তু ও পোকামাকড়ের আচার আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে আচরণ বিজ্ঞান বলে।
২) দুজন আচরণ বিজ্ঞানীর নাম লেখ।
ইংল্যান্ডের চার্লস ডারউইন, ফ্রান্সের জঁ আঁরি ফ্যাবা।
৩) চার্লস ডারউইনের লেখা বইটির নাম কি?
অরিজিন অব স্পিসিস।
৪) চার্লস ডারউইন তাঁর লেখা বইতে কি ব্যাখ্যা করেন?
জীবেরা কিভাবে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং একধরণের প্রজাতি থেকে কিভাবে নতুন ধরণের প্রজাতি সৃষ্টি হয়।
৫) কোন আচরণ বিজ্ঞানীর লেখাকে 'পোকামাকড়দের মহাকাব্য' বলা হয়?
বিজ্ঞানী জ আঁরি ফ্যাবার লেখাকে।
৬) বিজ্ঞানী জ আঁরি ফ্যাবা শুঁয়োপোকাদের একগুঁয়েমি স্বভাব নিয়ে কি লিখেছিলেন?
শুঁয়োপোকাদের একগুঁয়েমি কতটা তা দেখানোর জন্য বিজ্ঞানী জ আঁরি ফ্যাবা শুঁয়োপোকাদের একটা লাইনকে কাঠি দিয়ে তুলে গোল টবের কানায় বসিয়ে দিলেন। দেখলেন ওরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টবের কানায় একটার পর একটা লাইন দিয়ে চক্রাকারে ঘুরতে থাকল যতক্ষণ না পর্যন্ত ক্লান্তিতে খসে পড়ে যাচ্ছে।
৭) কোন তিনজন বিজ্ঞানীকে ডারউইন এবং ফ্যাবার উত্তরসূরি বলে ধরা হয়?
নিকো টিনবারজেন, কনরাড লোরেঞ্জ, কার্ল ফন ফ্রিস।
৮) 'পাখিদের বোকামি' বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছিলেন কে?
নিকো টিনোবারজেন।
৯) মৌমাছির নাচের ভাষা কে আবিস্কার করেছিলেন?
বিজ্ঞানী ফন ফ্রিশ।
১০) বিজ্ঞানী ফন ফ্রিশ কিভাবে মৌমাছিদের নাচের ভাষা আবিস্কার করেছিলেন? বিজ্ঞানী ফন ফ্রিশ লক্ষ করেছিলেন, কোনো জায়গায় ভালো মিষ্টি রস ভরা ফুল দেখে শ্রমিক মৌমাছিরা এসে অন্য শ্রমিক মৌমাছিদের ওই মিষ্টি মধু সংগ্রহ করার জন্য খবর দেয়। এই খবর দেওয়ার জন্য তারা একপ্রকার বিশেষ নাচের ভঙ্গি ব্যবহার করে। খাদ্যের উৎস, সূর্যালোকের উপস্থিতি এবং মৌচাক থেকে খাদ্যের দূরত্ব বোঝাতে শ্রমিক মৌমাছিরা চক্রাকারে এবং ইংরেজি '৪' সংখ্যার মতো ওয়াগেল নৃত্য করে।
১১) মৌমাছির চক্রাকার নৃত্য কি?
বিজ্ঞানী কার্ল ফন ফ্রিশ মৌমাছির চক্রাকার নৃত্য আবিস্কার করেন। খাদ্যের উৎস মৌচাক থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকলে শ্রমিক মৌমাছিরা বৃত্তাকারে যে নাচ প্রদর্শন করে, তাকে চক্রাকার নৃত্য বলে।
১২) ভারতীয় পাখিদের আচার আচরণ নিয়ে লিখেছেন এমন একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী বা পক্ষীবিশারদের নাম লেখ।
সালিম আলি।
১৩) কোন ভারতীয় বিজ্ঞানী বোলতাদের সমাজব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন?
রাঘবেন্দ্র গাডাগকার।
১৪) রতনলাল ব্রহ্মচারীর গবেষণা থেকে আমরা কি জানতে পারি?
বাঘেরা কিভাবে মুত্রের মধ্যে ফেরোমেন মিশিয়ে এলাকা চিহ্নিত করতে পারে।
১৫) বাংলার কীটপতঙ্গ বইটির লেখক কে?
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য।
১৬) গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের আবিষ্কৃত আচরণ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়টি লেখ।
বাঙালি আচরণ বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য পোকামাকড়দের আচরণ খুঁটিয়ে দেখেছেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। তিনি বিশেষ করে গাছের উঁচুতে আশ্রয় নেওয়া নালসো পিঁপড়ের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এই পিঁপড়েরা গাছের উপরে থাকলেও কিছু টহলদার পিঁপড়ে নিচের অবস্থা তদারকি করে। কেউ কেউ শুঁড় উঁচিয়ে মুখ হাঁ করে পাহারা মোতায়েন করে।
১৭) কোন পিঁপড়েরা যুদ্ধে পটু?
লাল পিঁপড়েরা।
১৮) কোন পিঁপড়েরা বেশি বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী?
কালো পিঁপড়েরা।
১৯) লাল পিঁপড়ের দলের সঙ্গে কালো পিঁপড়ের দলের সম্পর্ক লেখ।
কালো পিঁপড়েরা বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী হলেও যুদ্ধবাজ লাল পিঁপড়েরা সহজেই কালো পিঁপড়েদের পরাজিত করে তাদের মেরে ফেলে। এমনকি বাসা থেকে ডিম নিজেদের বাসায় নিয়ে আসে। এই কারণে লাল পিঁপড়ের দল সমাজে মনিব এবং কালো পিঁপড়ের দল তাদের সেবক হিসাবে কাজ করে।
২০) যাযাবর পিঁপড়ে কাদের বলে?
গরমের দেশে যে সব পিঁপড়েরা ঘন ঘন বাসা বদল করে, তাদের যাযাবর পিঁপড়ে বলে।
২১) চাষি পিঁপড়ের বৈশিষ্ট্য লেখ।
চাষি পিঁপড়েরা মাটিতে গর্ত করে বাসা বানায়। এদের বাসায় কাঁটা পাতা পচে গেলে তার উপরে একপ্রকার সাদা রং এর ছত্রাক জন্মায়। এই ছত্রাক চাষি পিঁপড়েদের প্রিয় খাদ্য।
২২) সাদা পিঁপড়ে কাকে বলা হয়?
উইপোকাকে।
২৩) উইপোকারা গর্তের বাইরে এসে ঘুরে বেড়ায় না কেন?
কারণ বেশীক্ষণ রোদের তাপ লাগলে উইপোকাদের শরীর থেকে জল বেরিয়ে শরীর শুকিয়ে যায়।
২৪) উইপোকাদের খাবার কি?
গাছের কাঠ অংশে সেলুলোজ নামের একপ্রকার শর্করা বস্তু থাকে যা অন্য কোনো প্রাণী হজম করতে না পারলেও উইপোকারা পারে। এটিই উইপোকাদের খাবার।
২৫) উইপোকা সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য কিভাবে হজম করে?
উইপোকার পৌষ্টিক নালিতে বসবাসকারী এককোশী প্রোটোজোয়া ট্রাইকোনিম্ফ সেলুলোজ পরিপাকে সহায়ক উৎসেচক ক্ষরণ করে। এই উৎসেচক সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে।
২৬) তিনটি সামাজিক পতঙ্গের নাম লেখ।
রেশম মথ, প্রজাপতি, মৌমাছি।
২৭) ফুলের মধ্যে যে মিষ্টি রস হয় তাকে কি বলে?
নেকটার।
২৮) মৌমাছির বাসাকে কি বলা হয়?
মৌচাক।
২৯) মৌচাক কি জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি?
মোম জাতীয় পদার্থ দিয়ে।
৩০) মৌমাছিকে সামাজিক বা সমাজবদ্ধ জীব বলে কেন?
মৌমাছিরা কখনই একা একা থাকে না। একসঙ্গে সবাই মিলে দলবদ্ধভাবে একটা পরিবার হিসাবে থাকে। তাই মৌমাছিকে সামাজিক বা সমাজবদ্ধ জীব বলে।
৩১) শ্রমিক মৌমাছিরা কি কি কাজ করে?
শ্রমিক মৌমাছিরা খুব পরিশ্রমী হয়। এরা মোম জমিয়ে চাক বাঁধে, ঘুরে ঘুরে ফুল থেকে মিষ্টি রস বা নেকটর সংগ্রহ করে মধু তৈরি করে। রাণী মৌমাছির সেবাযত্ন করে এবং বাচ্চাদের লালনপালন করে। মৌচাককে সুরক্ষিত রাখে। শত্রু এলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের গায়ে হুল ফুটিয়ে দেয়।
৩২) মৌমাছিদের জীবনযাত্রা বা সমাজ জীবন বর্ণনা কর।
মৌমাছিরা সমাজবদ্ধ জীব। একটি মৌচাকে একটি রাণী মৌমাছি, কিছু পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য শ্রমিক মৌমাছি থাকে। রাণী মৌমাছিদের কাজ শুধুমাত্র ডিম পাড়া। এরা আকারে বড় হয়। পুরুষ মৌমাছিরা রাণী মৌমাছির তুলনায় আকারে ছোট হয়। এদের কাজ প্রজননে লিপ্ত হওয়া। ডিম পাড়ার আগে একটি রাণী মৌমাছি এবং ৩-৪ টে পুরুষ মৌমাছি বৈবাহিক উড্ডয়নে মিলিত হয়। শ্রমিক মৌমাছিরা মৌচাকের যাবতীয় কাজ করে। মৌচাক তৈরি, মোম তৈরি, মকরন্দ সংগ্রহ করে মধু উৎপাদন, মৌচাক মেরামত করা প্রভৃতি। এছাড়াও রাণী মৌমাছির যত্ন নেওয়া এবং ডিম ফুটে লার্ভা বেরোলে তাদেরও যত্ন এই শ্রমিক মৌমাছিরাই নেয়।
৩৩) হাতির দেহের সবচেয়ে মজার অঙ্গ কি?
হাতির শুঁড়।
৩৪) হাতির শুঁড় কিভাবে তৈরি হয়েছে?
হাতির নাক এবং উপরের ঠোঁট জোড়া লেগে লম্বা হয়ে শুঁড় তৈরি হয়েছে।
৩৫) হাতি সমাজের নিয়ম খুব কড়া- একটি ঘটনার সাহায্যে ব্যাখ্যা কর।
চলার পথে কখনো কখনো কোনো কারণে হাতির বাচ্চা দলছুট হলে হাতির দল তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু যদি দেখে যে হারানো হাতি মানুষের কাছে আশ্রয় পেয়েছে, তাহলে হাতির দল সেই হারানো হাতিকে আর কোনোদিন গ্রহণ করে না।
৩৬) হাতি শুঁড়কে কি কাজে ব্যবহার করে?
হাতির শুঁড় ভীষণ কাজের। উপরে তুলে বাতাসে গন্ধ শোঁকা, গাছের ডাল মড়মড় করে ভাঙা, জল শুষে মুখে ঢালা, ঘাস ছিঁড়ে মাটি ঝেড়ে মুখে পোরা প্রভৃতি নানা কাজে লাগে। এছাড়াও মাটিতে যদি ছোট্ট একটা ফল পড়ে থাকে সেটাও শুঁড়ের ডগা দিয়ে তুলতে অসুবিধা হয় না হাতিদের।
৩৭) জীবজগতে কোন প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সবচেয়ে বেশি মিল?
শিম্পাঞ্জীদের সঙ্গে।
৩৮) কোন আচরণ বিজ্ঞানী আমাদের জানান যে শিম্পাঞ্জিরা কাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে উইপোকা ধরে খায়? মহিলা বিজ্ঞানী জেন গুডাল।
৩৯) পরিযায়ী কাদের বলে?
যারা শীত পড়লে শীতের দেশ থেকে গরমের দেশে চলে আসে, শীতের শেষে আবার সেখানে ফিরে যায়, তাদের পরিযায়ী বলে।
৪০) কয়েকটি পরিযায়ী পাখির নাম লেখ।
পরিযায়ী বুনো হাঁস, খঞ্জনা, কাজল পাখি।
৪১) পশ্চিমবঙ্গের দুটি জায়গার নাম লেখ যেখানে পরিযায়ী পাখিদের শীতের সময় দেখা যায়? সাঁতরাগাছি ঝিল এবং আলিপুর চিড়িয়াখানা।
৪২) আমাদের দেশে কোন দুটি জাতের কাক আমরা দেখতে পাই?
দাঁড়কাক এবং পাতিকাক।
৪৩) কোন প্রকার কাকের পুরো শরীর কুচকুচে কালো?
দাঁড়কাকের।
৪৪) কাকেরা যে সামাজিক তা একটি ঘটনার মাধ্যমে বুঝিয়ে দাও।
কাকেরা খুবই সামাজিক এবং শৃঙ্খলাপরায়ন। কোনো কাক বিপদে পড়লে আশেপাশের কাকেরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে কা কা করে ডাকতে থাকে। সেই ডাক শুনে ঝাঁকে ঝাঁকে অন্যান্য কাকেরা উড়ে এসে বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করে।
৪৫) মশাদের শরীরে কোন কোন রোগের জীবাণু থাকে?
ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, ফাইলেরিয়া প্রভৃতি রোগের।
৪৬) কোন মশা রক্ত খায়?
মেয়ে মশা।
৪৭) স্ত্রী মশারা কোন জলে ডিম পাড়ে?
স্রোত নেই এমন জলে।
৪৮) কোন প্রকার মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু থাকে?
অ্যানোফিলিস মশার শরীরে।
৪৯) কিউলেক্স মশা কোন রোগের জীবাণু বহন করে?
এনকেফালাইটিস, ফাইলেরিয়া প্রভৃতি রোগের।
৫০) কোন মশা কামড়ালে শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু প্রবেশ করতে পারে?
এডিস মশা।
৫১) কোন মশা ওড়ার সময় কোনো শব্দ হয় না?
এডিস মশা।
৫২) অ্যানোফিলিস মশা চেনার উপায় লেখ।
এদের ডানায় কালো ছোপ থাকে। এরা সন্ধার সময় বাইরে বেরোয় এবং ওড়ার সময় ডানায় শব্দ হয়। এরা সমতলের সঙ্গে সূক্ষ্মকোণ করে বসে।
৫৩) কিউলেক্স মশা চেনার উপায় লেখ।
এই মশা সমতলের সঙ্গে সমান্তরালে বসে। এদের ডানায় কোনো ছোপ থাকে না। এরা রাত্রে বাইরে বের হয় এবং ওড়ার সময় কোনো শব্দ হয় না।
৫৪) এডিস মশা চেনার উপায় লেখ।
এই মশার পেটে এবং পায়ে সাদা কালো ডোরা থাকে। এরা সমতলের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালে বসে। এরা দিনেরবেলা বাইরে বের হয়।
৫৫) মশাকে অপকারী প্রাণী বলা হয় কেন?
মশা বিভিন্ন রোগের বাহক রূপে কাজ করে। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া, স্ত্রী কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া, এনকেফালাইটিস, স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণু বহন করে। কোনো রোগাক্রান্ত মানুষের রক্তপান করার পর ওই মশাটি যখন কোনো সুস্থ মানুষকে দংশন করে তখন মশার দেহ থেকে রোগজীবাণু সুস্থ শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে সুস্থ মানুষটি রোগাক্রান্ত হয়। তাই মশা একটি অপকারী প্রাণী।
৫৬) মশার জীবনচক্রে কি কি দশা থাকে?
ডিম, শূককীট বা লার্ভা, মূককীট বা পিউপা এবং পূর্ণাঙ্গ মশা।
৫৭) মশা দমনের উপায়গুলি লেখ।
মশা স্থির এবং আবদ্ধ জলে ডিম পাড়ে। তাই পরিবেশে জল জমতে দেওয়া চলবে না। বাড়ির আশেপাশে কোথাও ডাবের খোলা, প্লাস্টিকের কাপ, মগ বা টবের মধ্যে জল জমলে তা ফেলে দেওয়া উচিৎ। নর্দমা, পুকুর বা ডোবার জলে তেলাপিয়া, গ্যাম্বুসিয়া প্রভৃতি মাছ চাষ করা যেতে পারে। কারণ এইসব মাছ মশার লার্ভা ভক্ষন করে নেয়। রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমোতে হবে। বাড়ির আশেপাশে ব্লিচিং পাউডার, কলিচুন, ডিডিটি প্রভৃতি স্প্রে করতে হবে।
৫৮) মাছের ফুলকোর কাজ কি?
মাছ ফুলকোর সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। অর্থাৎ জল থেকে অক্সিজেন শুষে নেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয়।
৫৯) কোন পাখনা মাছেদের জল ঠেলে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে?
কানকোর পাশে থাকা দুটি পাখনা।
৬০) মাছের লেজের পাখনার কাজ কি?
জলের মধ্যে মাছ যেদিকে যেতে চায় মাছকে সেইদিকে নিয়ে যায়।
৬১) লতাপাতা দিয়ে বাসা বানায় এমন দুটি মাছের নাম লেখ।
গজাল, শোল।
৬২) সি হর্স কোথায় বসবাস করে?
সাগরের জলে।
৬৩) কোন মাছের মুখের থলির মধ্যে শিশুরা জন্ম নেয়?
স্ত্রী তেলাপিয়া মাছের।
৬৪) মাছেরা বিপদে পড়লে কিভাবে অন্য মাছ টের পায়?
মাছেরা বিপদে পড়লে গা থেকে একটা অদ্ভুত গন্ধ বা ফেরোমেন ছড়ায়। এই গন্ধের প্রভাবে অন্যান্য মাছেরা সতর্ক হয়ে যায়। এছাড়াও বিপদ বুঝে মাছেরা জলের মধ্যে ছোটাছুটি করে অন্যান্য মাছেদের সতর্ক করে দেয়।
৬৫) সাপ নিজের মুখের থেকেও বড় ইঁদুর বা পাখি শিকার করতে পারে কিভাবে?
সাপের মাথার হাড় এমনভাবে সাজানো থাকে যে সাপ চোয়াল দুটোকে দুপাশে ছড়িয়ে বিশাল হাঁ করতে পারে। তাই সাপ নিজের মুখের থেকেও বড় ইঁদুর বা পাখি খুব সহজেই গিলে ফেলতে পারে।
৬৬) সাপের চামড়া কি দিয়ে ঢাকা থাকে?
আঁশ দিয়ে।
৬৭) সাপ কোনো কিছু বোঝে কিসের সাহায্যে?
সাপ কোনো কিছু বোঝে জিভের সাহায্যে। এদের ঘ্রাণশক্তি খুব ভালো। সাপ নিজের চেরা জিভদিয়ে বাতাসে ভাষা গন্ধের অণু মুখের ভিতর নিয়ে গন্ধ টের পায়। এছাড়া এরা বুক দিয়ে মাটিতে হওয়া সামান্য কম্পনও টের পায়।
৬৮) সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে এমন দুটি সাপের নাম লেখ।
চন্দ্রবোড়া, মেটুলি।
৬৯) কয়েকটি সাপের প্রজাতির নাম লেখ যারা মানুষের জন্য ভয়ংকর বিষাক্ত। চন্দ্রবোড়া, কেউটে, গোখরো, শঙ্খচূড়, শাঁখামুটি, কালাচ বা ডোমনচিতি প্রভৃতি।
৭০) ফণাবিহীন একটি বিষাক্ত সাপের নাম লেখ।
চন্দ্রবোড়া।
৭১) সাপের বিষ শিকারের কোথায় আঘাত করে?
কোনো বিষ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রে আবার কোনো বিষ রক্তসংবহনতন্ত্রে।
৭২) মানুষের সামনে পড়ে নিজেকে বিপদগ্রস্ত মনে করলে সাপ কি করে?
সাপ মানুষের সামনে পড়ে নিজেকে বিপদগ্রস্ত মনে করলে প্রথমে ভয় দেখিয়ে সতর্ক করে। যেমন কেউ জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে, হিসহিস শব্দ করে, আবার কেউ ফণা তোলে বা লেজের প্রান্ত নাড়ায়। এরপর নিজের বাঁচার রাস্তা না পেলে কামড়ায়।
৭৩) বাঘ কিভাবে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়?
কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করে।
৭৪) বাঘেরা অল্প আলোতেও মানুষের থেকে ভালো দেখতে পায় কিভাবে?
বাঘের চোখের রেটিনায় ট্যাপেটাম লুসিডাম নামে একটি বস্তু থাকে। তাই বাঘেরা অল্প আলোতেও মানুষের থেকে ৬ গুণ ভালো দেখতে পায়।
৭৫) বাঘ নিজের এলাকা কিভাবে চিহ্নিত করে?
বাঘ নিজের এলাকা চিহ্নিত করতে মূত্রনালি থেকে এক ধরণের তরল মাটিতে ও গাছে ছিটিয়ে দেয়। আবার গাছের কাণ্ডে আঁচড় কেটেও নিজের অঞ্চলের সীমানা ঠিক করে। গন্ধ শুঁকেই বাঘ ও বাঘিনী পরস্পরকে খুঁজে নেয়। এছাড়াও বাঘ কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করেও নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়। প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ সাধারণত একা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ে বসবাস করে।
৭৬) বাঘ সাধারণত কোন সময়ে শিকার করে?
সূর্যাস্ত থেকে গোধূলির মধ্যেকার সময়ে।
৭৭) বাঘিনী তার বাচ্চাদের কিভাবে বড় করে তোলে লেখ।
কোনো একটি জায়গা নির্বাচন করে ভালো করে পরিষ্কার করে সেখানে বাঘিনী বাচ্চা প্রসব করে। সদ্যোজাত বাচ্চাদের পাহারা দিতে গিয়ে অনেকসময় সারাদিন খাওয়াদাওয়া করে না। বাচ্চাদের কোনো বিপদ বুঝলে নতুন বাসা খুঁজে তাদের সেখানে নিয়ে চলে যায়। প্রয়োজনে আক্রমণ করে। শিকার করতে শেখার প্রথম পর্যায়ে শিকার করা প্রাণীর মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে দেয় এবং কিভাবে দাঁত বসিয়ে মাংস ছিঁড়ে খেতে হয় তা শেখায়। পরবর্তী পর্যায়ে কোনো আধমরা প্রাণীকে মারতে ও তার শরীরে দাঁত বসিয়ে মাংস ছিঁড়ে খেতে শেখায়। এছাড়া বাঘিনী বাচ্চাদের সাঁতার কাটতেও শেখায়। এভাবেই ৬-৭ মাস শিক্ষা পেয়ে পূর্ণাঙ্গ বাঘে পরিণত হয়।
৭৮) বাঘিনী কিভাবে তার বাচ্চাকে শিকার করতে শেখায়?
বাচ্চারা একটু বড় হলে বাঘিনী তাদের শিকার শেখাতে নিয়ে যায়। প্রথম প্রথম শিকার করা প্রাণীর মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে দেয়। দাঁত বসিয়ে কিভাবে মাংস ছিঁড়ে খেতে হয় তাও শেখায়।এরপর একসময়য় একটা আধমরা প্রাণীকে বাচ্চাদের কাছে নিয়ে এসে তার থেকে দাঁত দিয়ে মাংস ছিঁড়তে শেখায়। এভাবেই মা বাঘের কাছ থেকে ছয় সাত মাস শিক্ষা নিয়ে শিশু বাঘ পূর্নাঙ্গ বাঘে পরিণত হয়।
৭৯) ব্লাবার কি? এর কাজ লেখ।
তিমির চামড়ার নীচে চর্বির একটি পুরু স্তর থাকে। একে ব্লাবার বলে। এই স্তর দুইভাবে তিমিদের সাহায্য করে। প্রয়োজনে চলাফেরার শক্তি জোগান দেয় এবং দেহের তাপ বজায় রাখে।
৮০) ফ্লিপার কি?
এটি হল তিমিদের সাঁতার কাটার অঙ্গ। জলের জীবন মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিমিদের হাত দুটো ফ্লিপারে পরিণত হয়েছে।
৮১) ব্লোহোল কি?
এর সাহায্যে তিমি জলে ডুব দিয়ে ভেসে উঠে খুব জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে।
৮২) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিমি কোনটি?
নীল তিমি।
৮৩) জন্মের সময় নীল তিমি কত লম্বা এবং কত ওজনের হয়?
প্রায় ৭ মিটার লম্বা এবং প্রায় আড়াই হাজার কেজি ওজন হয়।
৮৪) একটি পূর্ণবয়স্ক নীল তিমি কত লম্বা এবং কত ওজনের হয়? প্রায় ৩০ মিটার লম্বা এবং ওজনে প্রায় আড়াই হাজার কেজি হয়।
৮৫) হ্যাম্পব্যাক তিমি কিসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে? সুরেলা গানের মধ্যে দিয়ে।
৮৬) অ্যাকোরিয়ামে রঙিন প্যারাডাইস মাছের বাচ্চা জন্মানোর পদ্ধতি সম্পর্কে যা জানো লেখ। অ্যাকোরিয়ামে প্যারাডাইস মাছের বাচ্চা জন্মানোর ক্ষেত্রে বাবা প্যারাডাইস মাছ এবং মা প্যারাডাইস মাছের স্বতন্ত্র ভূমিকা লক্ষ করা যায়। বাবা প্যারাডাইস মাছ মুখের লালা বের করে বাতাসে বুদবুদ ছাড়ে। মা প্যারাডাইস মাছ সেই লালার বুদবুদগুলি দিয়ে বাসা বানিয়ে তার ভিতর ডিম পাড়ে। বাবা প্যারাডাইস মাছ ডিমগুলিকে পাহারা দেয় এবং শিশু মাছেদের লালনপালন করে বড় করে তোলে।

