🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান — ষষ্ঠ শ্রেণি (Class 6)
দশম অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ
📝 গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি প্রশ্নোত্তর সংকলন
📌 বিভাগ ১: জীববৈচিত্র্য, নামকরণ ও জীবজগতের ধারণা
১. একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবকে কী বলা হয়?
উত্তর: প্রজাতি বা স্পিসিস (Species)।
২. বিজ্ঞানসম্মত নাম কেন রাখা হয়?
উত্তর: জীব সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে এবং বিশ্বব্যাপী নির্দিষ্ট কোনো জীবকে সঠিকভাবে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করা হয়।
৩. মানুষ এবং বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম লেখো। উত্তর:
- মানুষ: Homo sapiens (হোমো সেপিয়েন্স)
- বাঘ: Panthera tigris (প্যান্থেরা টাইগ্রিস)
৪. বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত কত প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দিতে পেরেছেন?
উত্তর: মাত্র উনিশ লক্ষের (১৯ লক্ষ) মতো প্রজাতির।
৫. জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থাকে কী বলা হয়?
উত্তর: ভাইরাস (Virus)।
৬. জীবজগতকে কয়টি রাজ্যে ভাগ করা হয় ও কী কী?
উত্তর: জীবজগতকে মোট ৫টি রাজ্যে ভাগ করা হয়:
- প্রাণীদের রাজ্য: অ্যানিম্যালিয়া (Animalia)
- উদ্ভিদদের রাজ্য: প্ল্যান্টি (Plantae)
- ব্যাকটেরিয়ার রাজ্য: মনেরা (Monera)
- ছত্রাকদের রাজ্য: ফানজাই বা ফাংগি (Fungi)
- এককোষী ইউক্যারিওটিক জীবদের রাজ্য: প্রোটিস্টা (Protista)
📌 বিভাগ ২: প্রাণিজগতের বিভিন্ন পর্ব ও বৈশিষ্ট্য
৭. বিভিন্ন পর্বের প্রাণীদের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
- আর্থ্রোপোডা (সন্ধিপদ): পোকা, মাকড়সা, কাঁকড়া, চিংড়ি প্রভৃতি।
- মোলাস্কা (কম্বোজ): শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস প্রভৃতি।
- অ্যানিলিডা (অঙ্গুরীমাল): কেঁচো, জোঁক প্রভৃতি।
- একাইনোডার্মাটা (কন্টকতক): সি-আর্চিন, তারামাছ (স্টারফিশ)।
- অ্যাস্কহেলমিনথিস (গোলকৃমি): গোলকৃমি।
- প্লাটিহেলমিনথিস (চ্যাপটাকৃমি): ফিতাকৃমি, প্ল্যানেরিয়া।
- কর্ডাটা বা ভার্টিব্রেট (মেরুদণ্ডী): মানুষ, গরু, ব্যাঙ, সাপ, টিকটিকি, রুইমাছ প্রভৃতি।
৮. আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: এদের শুঁড় এবং পা-গুলো খণ্ডে খণ্ডে (সন্ধিল উপাঙ্গ) যুক্ত থাকে এবং দেহের ওপর কাইটিন নির্মিত শক্ত খোলস থাকে।
৯. মোলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: এদের দেহ নরম ও মাংসল, চলাফেরার জন্য মাংসল পদ থাকে এবং দেহের বাইরে বা ভেতরে চুনজাতীয় (ক্যালশিয়াম কার্বনেট) পদার্থ দিয়ে তৈরি শক্ত খোলক থাকে।
১০. একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: এদের সারা গায়ের ত্বক কাঁটাযুক্ত হয় এবং মুখ দেহের নিচের দিকে (অঙ্কীয় দেশে) অবস্থান করে।
১১. কোন পর্বের প্রাণীদের দেহ আংটির ন্যায় খণ্ডক দ্বারা গঠিত?
উত্তর: অ্যানিলিডা (অঙ্গুরীমাল) পর্বের প্রাণীদের দেহ।
১২. ভার্টিব্রেট বা মেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর: যে সকল প্রাণীর দেহে মেরুদণ্ড উপস্থিত এবং মস্তিষ্কের সুরক্ষায় করোটি বা খুলি থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বা ভার্টিব্রেট বলে। যেমন— মানুষ, রুইমাছ, গরু ইত্যাদি।
১৩. মেরুদণ্ডী শ্রেণির প্রাণীর দেহের মাঝবরাবর ভ্রূণ অবস্থায় কী থাকে?
উত্তর: নোটোকর্ড (Notochord) নামের একটি স্থিতিস্থাপক দণ্ড থাকে।
১৪. তারামাছে অনুপস্থিত কিন্তু রুইমাছে উপস্থিত মৎস্য শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
- রুই মাছের প্রধান শ্বাসঅঙ্গ হলো ফুলকা।
- এদের সারা দেহ আঁশ দ্বারা ঢাকা থাকে এবং এরা মেরুদণ্ডী প্রাণী।
১৫. উভচর শ্রেণির প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
- এদের জীবনচক্রের লার্ভা দশা জলে ও পূর্ণাঙ্গ দশা প্রধানত ডাঙায় কাটে।
- এরা শীতল রক্তের মেরুদণ্ডী প্রাণী এবং এদের পায়ের আঙুল নখবিহীন।
- এদের হৃৎপিণ্ডে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)।
📌 বিভাগ ৩: অণুজীব ও কোষের সাধারণ ধারণা
১৬. এককোষী ইউক্যারিওটিক জীবের রাজ্যকে এককথায় কী বলে?
উত্তর: প্রোটিস্টা (Protista)।
৩৬. দইয়ের সাজায় থাকা কোন জীব দুধকে দই বানিয়ে দেয়? উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus) নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া।
৩৭. অধিকাংশ কোষের মধ্যে যে গোল মতো প্রধান অঙ্গাণু থাকে তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: নিউক্লিয়াস (Nucleus)।
📌 বিভাগ ৪: উদ্ভিদজগতের শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য
১৭. হার্বস বা বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদের কাণ্ড নরম, দুর্বল, কাষ্ঠহীন ও রসালো হয় এবং স্বল্পজীবী হয়, তাদের বীরুৎ বা হার্বস বলে। যেমন— কুমড়ো গাছ, আলু গাছ।
১৮. গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বা শ্রাবস কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদ খুব বেশি লম্বা হয় না, প্রধান কাণ্ড বা গুঁড়ি স্পষ্ট থাকে না কিন্তু গোড়া থেকেই অসংখ্য শক্ত ডালপালা তৈরি হয়ে ঝোপের আকার ধারণ করে, তাদের গুল্ম বা শ্রাবস বলে। যেমন— জবা গাছ, গোলাপ গাছ।
১৯. বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদ দীর্ঘ ও বৃহদাকার হয় এবং যাদের একটি শক্ত মোটা কাষ্ঠল গুঁড়ি ও অসংখ্য ডালপালা থাকে, তাদের বৃক্ষ বলে। যেমন— আম গাছ, বট গাছ।
২০. দুটি বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।
উত্তর: আলু গাছ ও কুমড়ো গাছ।
২১. কোন জাতীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে না?
উত্তর: শৈবাল বা অ্যালগি (Algae) জাতীয় উদ্ভিদের।
২২. থ্যালোফাইটা বা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যেসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে না এবং শরীর নরম ও থলথলে প্রকৃতির হয়, তাদের থ্যালোফাইটা বলে। যেমন— স্পাইরোগাইরা।
২৩. ‘জলরেশম’ বা ‘Water Silk’ কাকে বলে?
উত্তর: স্পাইরোগাইরা (Spirogyra)-কে।
২৪. দুটি ফার্নজাতীয় গাছ বা টেরিডোফাইটার উদাহরণ দাও।
উত্তর: ঢেঁকিশাক ও শুশনিশাক।
২৫. কোন উদ্ভিদের পাতা কচি অবস্থায় কুকুরের গোটানো লেজের মতো পেঁচানো থাকে?
উত্তর: টেরিডোফাইটা বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের কচি পাতা (সারসিনেট ভার্নেশন)।
২৬. সবচেয়ে উন্নত অপুষ্পক উদ্ভিদ কোনটি?
উত্তর: ফার্নজাতীয় উদ্ভিদ বা টেরিডোফাইটা।
২৭. কোন উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে উভচর উদ্ভিদ বলা হয় এবং কেন?
উত্তর: ব্রায়োফাইটা (মসবর্গীয়) উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে উদ্ভিদজগতের উভচর বলা হয়।
- কারণ: এরা স্থলে জন্মালেও জনন ও নিষেকের জন্য জলের উপস্থিতি একান্ত অপরিহার্য।
২৮. ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল সপুষ্পক উদ্ভিদের ফল গঠিত হয় না এবং বীজগুলি নগ্ন বা অনাবৃত অবস্থায় থাকে, তাদের ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন— পাইন, সাইকাস।
২৯. গুপ্তবীজী উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদের ফুল থেকে ফল উৎপন্ন হয় এবং বীজ ফলের অভ্যন্তরে লুকানো বা আবৃত থাকে, তাদের গুপ্তবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন— আম, জাম, কাঁঠাল, ধান ইত্যাদি।
৩০. গুপ্তবীজী উদ্ভিদ কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: গুপ্তবীজী উদ্ভিদ প্রধানত ২ প্রকার— ১) একবীজপত্রী উদ্ভিদ ২) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ
৩১. একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন— ধান, গম, ভুট্টা, সুপুরি, নারকেল, খেজুর ইত্যাদি।
৩২. দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন— ছোলা, মটর, চিনেবাদাম, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
📌 বিভাগ ৫: একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের তুলনা
৩৩. পার্থক্য লেখো: একবীজপত্রী উদ্ভিদ ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।
| পার্থক্যের বিষয় | একবীজপত্রী উদ্ভিদ | দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ |
|---|---|---|
| ১. বীজপত্রের সংখ্যা | বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে। | বীজে দুটি বীজপত্র থাকে। |
| ২. পাতার শিরাবিন্যাস | পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। | পাতায় জালকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়। |
| ৩. মূলতন্ত্র | প্রধানত গুচ্ছমূল প্রকৃতির হয়। | প্রধানত স্থানিক বা প্রধান মূলতন্ত্র থাকে। |
৩৪. পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায় এমন কয়েকটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর: ধান গাছ, গম গাছ, কলা গাছ, বাঁশ গাছ, কচু গাছ প্রভৃতি।
৩৫. জালকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায় এমন কয়েকটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর: আম গাছ, কাঁঠাল গাছ, জবা গাছ, লেবু গাছ, তুলসি গাছ, বট গাছ প্রভৃতি।
