Class- 6 পরিবেশ ও বিজ্ঞান
চতুর্থ অধ্যায়
আমাদের এই পৃথিবীর উপরিভাগ বা ভূত্বক যা দিয়ে গঠিত, তার প্রধান উপাদানই হলো শিলা। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, পায়ের নিচের শক্ত পাথরগুলো কীভাবে তৈরি হলো? কেন কোনো পাথর খুব শক্ত, আবার কোনোটি খুব সহজেই ভেঙে যায়? বা কেন কিছু পাথরের ভেতরে চকচকে দানা দেখা যায়?
ষষ্ঠ শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান বইয়ের 'শিলা ও খনিজ' অধ্যায়টি আমাদের এই রহস্যময় মাটির নিচের জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভা থেকে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়, কীভাবে বছরের পর বছর পলি জমে তৈরি হয় পাললিক শিলা, আর চাপের প্রভাবে কীভাবে এক পাথর বদলে গিয়ে অন্য পাথরে রূপান্তরিত হয়।
শুধু পাথর নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত লোহা, তামা কিংবা অ্যালুমিনিয়াম—সবই কিন্তু আসে মাটির গভীরে থাকা বিভিন্ন খনিজ বা মিনারেল থেকে। এই অধ্যায়টি পাঠ করলে শিক্ষার্থীরা খনিজ পদার্থের গুরুত্ব এবং আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে।
এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব:
• শিলা কী এবং এর বিভিন্ন প্রকারভেদ।
• অ্যাগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য।
• খনিজ ও আকরিকের মধ্যে পার্থক্য।
• দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধাতু ও অধাতুর ব্যবহার।
গুরুত্বপূর্ণ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১) গভীরতার সঙ্গে চাপ ও উষ্ণতার সম্পর্ক কি?
উত্তর: গভীরতা বাড়লে চাপ ও উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।
২) পৃথিবীর গভীরে পাথর তরল অবস্থায় থাকে কেন?
উত্তর:কারণ পৃথিবীর গভীরে চাপ ও উষ্ণতা খুব বেশি থাকে।
৩) ম্যাগমা কাকে বলে?
উত্তর:পৃথিবীর গভীরের চাপ এবং উষ্ণতা এতই বেশি হয় যে সেখানে পাথর তরল অবস্থায় থাকে। একেই ম্যাগমা বলে।
৪) লাভা কাকে বলে?
উত্তর:ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত, গলিত ম্যগমা যখন কোনো পাথরের ফাটল বা পাহাড়ের মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
৫) পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণকে কি বলে?
উত্তর:ভূ-ত্বক।
৬) ভূ-ত্বক গঠনের প্রধান উপাদান কি?
উত্তর:শিলা।
৭) শিলা কয়প্রকার ও কি কি?
উত্তর:তিনপ্রকার। আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা এবং রূপান্তরিত শিলা।
৮) আগ্নেয় শিলা কাকে বলে?
উত্তর:উত্তপ্ত ও তরল আগ্নেয় পদার্থ বা ম্যাগমা জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
৯) আগ্নেয় শিলা কয়রকম ও কি কি?
উত্তর:তিনরকম। ব্যাসল্ট, গ্রানাইট এবং পিউমিস।
১০) রেললাইনের ধারে কোন পাথর বা শিলা দেখা যায়?
উত্তর:ব্যাসল্ট নামক আগ্নেয় শিলা।
১১) পিউমিস বা ঝামা পাথর কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর:ভূ-গর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমার উপর ফ্যানার মতো অংশ তাড়াতাড়ি জমে গিয়ে পিউমিস বা ঝামা পাথর তৈরি হয়।
১২) পিউমিস আগ্নেয় শিলায় ছিদ্র দেখা যায় কেন?
উত্তর:তরল ম্যাগমায় দ্রবীভূত গ্যাস ম্যাগমার মধ্য দিয়ে বেরোনোর ফলে পিউমিস পাথরে ছিদ্র দেখা যায়।
১৩) পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর:হ্রদ, নদী বা সমুদ্রের জলের নীচে পলি জমা হয়। ধীরে ধীরে সেই পলিস্তর মাটির নীচে চলে যেতে থাকে। মাটির নীচে গরম এবং চাপে লক্ষ লক্ষ বছরে সেই পলি স্তরে স্তরে জমাট বেঁধে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়।
১৪) ফসিল কাকে বলে?
উত্তর:মাছ, শামুক প্রভৃতি প্রাণীর পাথর হয়ে যাওয়া দেহাবশেষকে ফসিল বলে।
১৫) কয়েকটি পাললিক শিলার উদাহরণ দাও।
উত্তর:বেলেপাথর, শেল, চুনাপাথর ইত্যাদি।
১৬) পাললিক শিলার অপর নাম কি ও কেন?
উত্তর:স্তরে স্তরে পলি সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয় বলে এই শিলার অপর নাম স্তরীভূত শিলা।
১৭) পৃথিবীর উপরিভাগের বেশিরভাগ কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর:আগ্নেয় শিলা এবং রুপান্তরিত শিলা।
১৮) একটি ধাতুর নাম লেখো যা প্রকৃতিতে মৌল অবস্থায় পাওয়া যায়?
উত্তর:সোনা।
১৯) পরিবর্তিত রূপ লেখ।
উত্তর:চুনাপাথর- মার্বেল পাথর
শেল- স্লেট
গ্রানাইট- নিস।
২০) ধাতুর খনিজ বা মিনারেল কাকে বলে?
উত্তর:প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধাতুর নানারকম যৌগ বালি, মাটি ইত্যাদির সঙ্গে মিশে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, এদের ধাতুর খনিজ বা মিনারেল বলে।
২১) ধাতু নিষ্কাশন কাকে বলে?
উত্তর:খনিজ থেকে ধাতুকে আলাদা করার পদ্ধতিকে ধাতু নিষ্কাশন বলে।
২২) ধাতুর আকরিক বা ওর কাকে বলে?
উত্তর:যে সকল খনিজ থেকে সহজ উপায়ে ও সুলভে উচ্চমানের ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে ঐ ধাতুর আকরিক বলে। যেমন- লোহার আকরিক হেমাটাইট।
২৩) নীচের ধাতুগুলির প্রধান প্রধান আকরিকের নাম লেখ। আকরিকগুলি কোন কোন মৌল দ্বারা গঠিত তা লেখ।
উত্তর:লোহা- হেমাটাইট (লোহা ও অক্সিজেন)
অ্যালুমিনিয়াম- বক্সাইট (অ্যালুমিনিয়াম ও অক্সিজেন)
তামা- কপার গ্ল্যান্স (তামা, সালফার)
২৪) আকরিক ও খনিজের মূল পার্থক্য কি?
উত্তর:যে সকল খনিজ থেকে সহজ উপায়ে ও সুলভে উচ্চমানের ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে আকরিক বলে। প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধাতুর নানারকম যৌগ বালি, মাটি ইত্যাদির সঙ্গে মিশে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, এদের ধাতুর খনিজ বা মিনারেল বলে।
২৫) ধাতু নিষ্কাশন কি প্রকার পরিবর্তন?
উত্তর:রাসায়নিক পরিবর্তন।
২৬) সংকর ধাতু কাকে বলে?
উত্তর:একটি ধাতুর সঙ্গে অন্য কোনো ধাতু বা অধাতু বিশেষ মাত্রায় মিশে থাকলে তাকে সংকর ধাতু বলে।
২৭) রাং ঝাল কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:ধাতুর জিনিস জোড়া দেওয়ার কাজে।
২৮) কোন কোন ধাতুর মিশ্রণে তৈরি?
উত্তর:ব্রোঞ্জ- তামা ও টিন।
পিতল- তামা ও দস্তা।
স্টেইনলেস স্টিল- লোহা ও ক্রোমিয়াম।
ইস্পাত বা স্টিল- লোহা ও কার্বন।
২৯) জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল কাকে বলে?
উত্তর:জীবদেহ দীর্ঘদিন মাটির তলায় চাপা পড়ে থাকার ফলে তাপ ও চাপের প্রভাবে যে সকল জ্বালানি সৃষ্টি হয়, তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল বলে। যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।
৩০) মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি কোনটি?
উত্তর:কয়লা।
৩১) কয়লার ব্যবহার লেখো।
- উত্তর: কয়লা পুড়িয়ে যে তাপ পাওয়া যায় তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- রান্নার কাজে জ্বালানি হিসাবে কয়লার ব্যবহার আছে।
- কয়লাকে বেশি উষ্ণতায় গরম করা হলে যে কঠিন অবশেষ পাওয়া যায় তা ধাতু নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহার হয়।
- কয়লা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপজাত দ্রব্য যেমন- আলকাতরা, ন্যাপথলিন, স্যাকারিন প্রভৃতি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়।
৩২) পেট্রোলিয়াম শোধনের সময় কি কি গ্যাসীয় জ্বালানি পাওয়া যায়?
উত্তর:প্রোপেন ও বিউটেন।
৩৩) পেট্রোলিয়ামকে শোধন করা দরকার কেন?
উত্তর:পেট্রোলিয়ামের মধ্যে বিভিন্ন যৌগ, জল, মাটি প্রভৃতি মিশে থাকে। তাই এই পদার্থগুলিকে দূর করার জন্যই পেট্রোলিয়ামকে শোধন করা দরকার।
৩৪) LPG এর পুরো কথা লেখ।
উত্তর:লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস।
৩৫) LPG এর ব্যবহার লেখ।
উত্তর:রান্নার গ্যাস হিসাবে ব্যবহার হয়।
৩৬) CNG এর পুরো কথা লেখ।
উত্তর:কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস।
৩৭)CNG এর ব্যবহার লেখো।
উত্তর:জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হয়। এছাড়া বর্তমানে অনেক জায়গায় বাস চালাতেও এই গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে।
৩৮) প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কি?
উত্তর:মিথেন বা CH4
