Class 6 poribesh chapter 3 । পরিবেশ ও বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

 Class 6 
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
তৃতীয় অধ্যায়
মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ
Class 6  পরিবেশ ও বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ


গুরুত্বপূর্ণ  অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর

১) পদার্থের কয়টি ভৌত অবস্থা ও কি কি?

উত্তর: তিনটি ভৌত অবস্থা। কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়।

২) কয়েকটি পদার্থের নাম লেখ যাদের শুধুমাত্র কঠিন এবং গ্যাসীয় অবস্থা দেখা যায়।

উত্তর:কপূর, ন্যাপথলিন, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি।

৩) বস্তু ও পদার্থের মূল পার্থক্যটি লেখ।

উত্তর:বস্তু- আমরা আমাদের চারপাশে যে সকল জিনিস দেখতে পাই তা হল বস্তু।

পদার্থ- বস্তু যে উপাদান দিয়ে তৈরি তা হল পদার্থ। পদার্থের ভর আছে, পদার্থ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং কিছুটা স্থান দখল করে থাকে। যেমন- কাঠের চেয়ার হল বস্তু এবং কাঠ হল পদার্থ।

৪) ধাতুর ধর্মগুলি লেখ।

উত্তর:

•ধাতু সাধারণ অবস্থায় কঠিন, ভারী, •উজ্জ্বল ও চকচকে।

•ধাতু তাপ ও তড়িৎ এর সুপরিবাহী।

•ধাতুকে আঘাত করলে শব্দ উৎপন্ন হয়।

•ধাতু নমনীয় ও প্রসারণশীল হয়।

৫) অধাতুর ধর্মগুলি লেখ।

উত্তর: অধাতু সাধারণ অবস্থায় কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে।

অধাতু তাপ ও তড়িৎ এর কুপরিবাহী হয়।

অধাতু হালকা, অনুজ্জ্বল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়।

৬) একটি তরল ধাতুর নাম লেখ।

উত্তর:পারদ।

৭) একটি তড়িৎ পরিবাহী অধাতুর নাম লেখ।

উত্তর:গ্রাফাইট।

৮) একটি তাপের সুপরিবাহী অধাতুর নাম লেখ।

উত্তর:হিরে।

৯) সবচেয়ে ভারী অধাতু কোনটি?

উত্তর:আয়োডিন।

১০) পার্থক্য লেখ। ধাতু ও অধাতু।

ধাতু অধাতু
১)ধাতু সাধারণ অবস্থায় কঠিন হয়। (ব্যতিক্রম- পারদ ধাতু হলেও তরল) ১)অধাতু সাধারণ অবস্থায় কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে।
২)ধাতু তাপ ও তড়িৎ এর সুপরিবাহী। ২)অধাতু তাপ ও তড়িৎ এর কুপরিবাহী, ব্যতিক্রম- গ্রাফাইট।
৩)ধাতুকে আঘাত করলে ধাতব শব্দ উৎপন্ন হয়। ৩)অধাতুকে আঘাত করলে কোনো ধাতব শব্দ উৎপন্ন হয় না।

১১) বিশুদ্ধ পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর:যেসব পদার্থের মধ্যে একাধিক পদার্থ মিশে থাকে না, তাদের বিশুদ্ধ পদার্থ বলে। যেমন- লোহা।

১২) মিশ্র পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর:দুই বা ততোধিক মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে যেকোনো অনুপাতে মিশিয়ে যদি এমন পদার্থ পাওয়া যায়, যেখানে মিশ্রিত পদার্থগুলি তাদের নিজস্ব ধর্ম বজায় রেখে অবস্থান করে, তবে সেই পদার্থকে মিশ্র পদার্থ বলে। যেমন- বায়ু, জল ও চিনির মিশ্রণ প্রভৃতি।

১৩) তড়িৎ চালনার ফলে জল ভেঙে কি কি তৈরি হয়?

উত্তর:হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন।

১৪) দুধ ফোটানোর সময় দুধ ক্রমশ ঘন হয়ে যায় কেন?

উত্তর:কারণ দুধ ফোটানোর সময় ওই দুধের মধ্যে থাকা কিছু পরিমাণ জল দুধ থেকে বেরিয়ে যায়।

১৫) কয়েকটি মিশ্রণের উদাহরণ দাও।

উত্তর:কঠিন ও কঠিনের মিশ্রণ- পিতল (তামা ও দস্তার মিশ্রণ)

কঠিন ও গ্যাসের মিশ্রণ- ধোঁয়া (কার্বন কণা ও বাতাস)

কঠিন ও তরলের মিশ্রণ- চিনি ও জলের মিশ্রণ।

তরল ও গ্যাসের মিশ্রণ- সোডা ওয়াটার।

গ্যাস ও গ্যাসের মিশ্রণ- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, বায়ু।


১৬) যৌগিক পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর: দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে যুক্ত হয়ে যে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ উৎপন্ন করে, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড, জল, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি।


১৭) মৌলিক পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর: যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্মের অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন- সোনা, রুপো, তামা প্রভৃতি।

১৮) সবচেয়ে হালকা মৌলের নাম লেখ।

উত্তর: হাইড্রোজেন।

১৯) জল যৌগিক পদার্থ না মিশ্র পদার্থ কারণসহ লেখ।

উত্তর: জল একটি যৌগিক পদার্থ। কারণ-

জল হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়।

জলের মধ্যে উপাদান মৌলগুলির ওজন অনুপাত নির্দিষ্ট থাকে।

জলের উপাদান মৌলগুলির আপেক্ষিক পরিমাণ কখনও পরিবর্তন করা যায় না।

২০) পার্থক্য লেখ। মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।

মৌলিক পদার্থ যৌগিক পদার্থ
১) যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্মের অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন-সোনা, রুপো, তামা প্রভৃতি। দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে যুক্ত হয়ে যে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ উৎপন্ন করে, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড, জল, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি।

২) চিহ্নের সাহায্যে মৌলকে প্রকাশ করা যায়।
যৌগকে প্রকাশ করার জন্য সংকেতের প্রয়োজন।



২১) জলের সংকেত H₂O থেকে কি জানা যায়?

উত্তর: H₂O দ্বারা এক অণু জল বোঝায়।

জল হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন মৌল দিয়ে গঠিত।

জলের একটি অণু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত।

২২) অক্সিজেনের ব্যবহার লেখ।

উত্তর: অক্সিজেন আমাদের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে।

কোনো কিছু জ্বলতেও অক্সিজেন সাহায্য করে।

২৩) অক্সিজেনের ধর্ম লেখ।

উত্তর: •অক্সিজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন ও সাধারণ অবস্থায় গ্যাসীয় পদার্থ।

•অক্সিজেন কোনো কিছু জ্বলতে সাহায্য করে।

•শ্বাসকার্যেও সাহায্য করে অক্সিজেন।

২৪) হাইড্রোজেনের ধর্ম লেখ।

উত্তর: •হাইড্রোজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন একটি গ্যাসীয় পদার্থ।

•অক্সিজেনের উপস্থিতিতে আগুন দিলে হাইড্রোজেন গ্যাস নিজেই জ্বলে।

•হাইড্রোজেন গ্যাস বাতাসের চেয়েও হালকা।

২৫) জলের ধর্ম লেখ।

উত্তর: জল বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং সাধারণ অবস্থায় তরল।

কোনো কিছু জ্বলতে সাহায্য করে না।

২৬) কার্বনের ধর্ম লেখ।

উত্তর:

•কার্বন কালো রঙের একটি কঠিন পদার্থ।

•কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ আছে।

•এটি নিজেই জ্বলে।

২৭) কার্বন ডাই অক্সাইড এর ধর্ম লেখ।

উত্তর:

•কার্বন ডাই অক্সাইড বর্ণহীন, গন্ধহীন ও গ্যাসীয় পদার্থ।

•উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে।

•কোনো কিছু জ্বলতে সাহায্য করে না।

২৮) উঁচু পাহাড়ের উপরে শ্বাসকষ্ট হয় কেন?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উঁচুতে যাওয়া হয় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তত কমতে থাকে। তাই উঁচু পাহাড়ের উপরে শ্বাসকষ্ট হয়।

২৯) বর্ষাকালে ভিজে কাপড় শুকোতে দেরি হয় কেন?

উত্তর:কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে।

৩০) মৌলের পরমাণু কাকে বলে?

উত্তর:মৌলের যে ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে ওই মৌলের সমস্ত ধর্ম বজায় থাকে এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে ওই মৌলের পরমাণু বলে।

৩১) যৌগগুলি কি কি মৌলের পরমাণু দিয়ে তৈরি?

উত্তর:চিনি- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

পাথুরে চুন-ক্যালশিয়াম ও অক্সিজেন।

নুন- সোডিয়াম ও ক্লোরিন।

জল- হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

কার্বন ডাই অক্সাইড- কার্বন ও অক্সিজেন।

হাইড্রোজেন ক্লোরাইড- হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন।

৩২) তিনটি পরমাণু যুক্ত একটি মৌলের নাম লেখ।

উত্তর:ওজোন। এটি তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত।

৩৩) প্রকৃতিতে মোট কতগুলি মৌল আছে?

উত্তর:৯২ টি।

৩৪) রুপার ল্যাটিন নাম কি?

উত্তর:আর্জেন্টাম।

৩৫) রজত বা চাঁদি কি?

উত্তর:রুপোকে কোথাও কোথাও রজত বা চাঁদি বলা হয়।

৩৬) চিহ্ন কাকে বলে?

উত্তর:কোনো মৌলিক পদার্থের একটি পরমাণুকে যার দ্বারা সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়, তাকে চিহ্ন বলে।

৩৭) মৌলের পারমানবিকতা কাকে বলে?

উত্তর:কোনো মৌলের একটি অণুতে যত সংখ্যক পরমাণু থাকে, তাকে ওই মৌলের পারমানবিকতা বলে।

৩৮) H এবং H₂  এর পার্থক্য কি?

উত্তর:H হল হাইড্রোজেন মৌলের চিহ্ন এবং H₂ হল হাইড্রোজেনের সংকেত।

৩৯) যোজ্যতা কাকে বলে?

উত্তর:কোনো মৌলের পরমাণুর অপর কোনো মৌলের পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করার ক্ষমতাকে যোজ্যতা বলে।

৪০) পরিবর্তনশীল যোজ্যতা কাকে বলে?

উত্তর:কতগুলি মৌলের যোজ্যতা বিভিন্ন যৌগে বিভিন্ন হয় অর্থাৎ একাধিক যোজ্যতা দেখা যায়। একে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বলে।

৪১) কোন মৌলের যোজ্যতা শূন্য হয়?

উত্তর:নিষ্ক্রিয় মৌলের।

৪২) হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত মৌলের যোজ্যতা কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

উত্তর:কোনো মৌলের একটি পরমাণু যত সংখ্যক হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে, সেই সংখ্যা দিয়ে হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত মৌলের যোজ্যতা নির্ণয় করা হয়।

৪৩) অ্যামোনিয়াতে নাইট্রোজেন মৌলের যোজ্যতা কত?

উত্তর:3

৪৪) দ্রবণ কাকে বলে?

উত্তর:দুই বা ততোধিক পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণের যেকোনো অংশের উপাদান, গঠন ও ধর্ম যদি একই থাকে এবং উপাদানগুলির আপেক্ষিক অনুপাত যদি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পরিবর্তন করা যায়, তাহলে ওই মিশ্রণকে দ্রবণ বলে।

৪৫) দ্রবণকে মিশ্র পদার্থ বলা হয় কেন?

উত্তর:দ্রবণের মধ্যে ওর উপাদানগুলির নিজস্ব ধর্ম বজায় থাকে।

দ্রবণের মধ্যে উপাদানগুলি কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।

দ্রবণের মধ্যে ওর উপাদানগুলির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪৬) দ্রাব এবং দ্রাবক কাকে বলে?

উত্তর: দ্রাব- দ্রবনের মধ্যে যে উপাদানটির পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদান অন্য উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত হয়ে মিশ্রণ উৎপন্ন করে, তাকে দ্রাব বলে।

দ্রাবক- দ্রবনের মধ্যে যে উপাদানটির পরিমাণ বেশি থাকে এবং যে উপাদানটির ভৌত অবস্থা দ্রবণের ভৌত অবস্থার মতো হয়, তাকে দ্রাবক বলে।

৪৭) পরিস্রাবণ কাকে বলে?

উত্তর:যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে কোন তরলে অদ্রাব্য কঠিন পদার্থের সূক্ষ্ম কণাগুলিকে ফিলটার কাগজের মাধ্যমে পৃথক করা হয়, সেই পদ্ধতিকে পরিস্রাবণ পদ্ধতি বলে।

৪৮) পরিস্রাবণ পদ্ধতিতে পৃথক করা যায় এমন একটি মিশ্রণের উদাহরণ দাও।

উত্তর:চকের গুঁড়ো এবং জলের মিশ্রণ।

৪৯) আস্রাবন কাকে বলে?

উত্তর:যে পদ্ধতিতে তরলে অদ্রাব্য ভাসমান কঠিন পদার্থের সূক্ষ্ম কণাগুলিকে তরলের নিচের অংশে থিতিয়ে উপরের পরিষ্কার তরলকে অন্য পাত্রে ঢেলে পৃথক করা হয়, তাকে আস্রাবন পদ্ধতি বলে।

৫০) কেলাসন কাকে বলে?

উত্তর:দ্রবণ থেকে কঠিন পদার্থের কেলাস তৈরির পদ্ধতিকে কেলাসন বলে।

৫১) নুনজলের মিশ্রণ থেকে কোন পদ্ধতিতে নুনকে আলাদা করা যায়?

উত্তর:কেলাসন পদ্ধতিতে।

৫২) চিনিকে জলে গুলে দেওয়ার পর আর দেখতে পাওয়া যায় না কেন?

উত্তর:কারণ চিনির কণা আরও ছোট হয়ে জলে একেবারে মিশে যায়।

৫৩) কাদাগোলা জল থেকে কাদা ও জলকে কিভাবে পৃথক করা যায়?

উত্তর: পরিস্রাবণ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ কাদাগোলা জলকে ফিলটার কাগজের মাধ্যমে ছেঁকে নিতে হবে। এর ফলে জল ফিলটার কাগজের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও কাদার কণা ফিলটার কাগজের মধ্যে অবশেষ হিসাবে পড়ে থাকবে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.